আত্ম শুদ্ধির মাস : মুবারক হো মাহে রমজান

মুহাম্মদ রুহুল আমীন নগরী : আজ রোববার, দুই রমজান ১৪৩৩ হিজরী মোতাবেক ২২ জুলাই ২০১২ ঈসায়ী। রহমতের দশকের ২য় দিন। রোজা হলো ইসলামের পঞ্চভিত্তির একটি। প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং সাহাবায়ে কেরাম (রা.) রমজান মাসে ইবাদাতের জন্য বেশী মনোনিবেশ...

মুহাম্মদ রুহুল আমীন নগরী : আজ রোববার, দুই রমজান ১৪৩৩ হিজরী মোতাবেক ২২ জুলাই ২০১২ ঈসায়ী। রহমতের দশকের ২য় দিন। রোজা হলো ইসলামের পঞ্চভিত্তির একটি। প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং সাহাবায়ে কেরাম (রা.) রমজান

মাসে ইবাদাতের জন্য বেশী মনোনিবেশ করতেন। রমজানের রোজা মুসলমানদের জন্য একটি বিশেষ গুরুত্বর্পুণ ইবাদাত। এসর্ম্পকে ইরশাদ হচ্ছে, রমজান মাস হলো মানুষের দিশারী এবং সৎপথের স্পষ্ট নির্দশন ও সত্যাসত্যের র্পাথক্যকারীরুপে কুরআন অবর্তীণ হয়েছে। সুতরাং তোমাদের মধ্যে যারা এ মাস পাবে তারা যেন এ মাসে সিয়াম পালন করে। ( সূরা বাকারা-২: ১৮৬)
রোজার ফযীলত ও উপকারীতা অনেক । হাদীসে এ সম্বন্ধে বিস্তারিত বিবরণ রয়েছে। হযরত সালমান ফারসী (রাঃ) বলেন, প্রিয় নবী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শাবান মাসের শেষদিন আমাদেরকে উপদেশ দিতে গিয়ে বলেন, হে আল্লাহর বান্দাগণ, তোমাদের প্রতি এক বিরাট, মুবারক মাস এসে ছায়া বিস্তার করেছে। এ মাসে এমন একটি রাত আছে যা হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। এ মাসে আল্লাহ তায়ালা রোযা ফরয করেছেন এবং রাতে জাগরণ (তারাবীহের নামায) সুন্নাত ঘোষণা করেছেন। যে ব্যক্তি এ মাসে কোন নেক আমল (নফল এবাদাত) দ্বারা আল্লাহ তায়ালার নৈকট্য লাভ করল, মর্যাদার ক্ষেত্রে সে যেন ঐ ব্যক্তির ন্যায় যে অন্য মাসে কোন ফরয আদায় করলো। আর যে ব্যক্তি এ মাসে একটি ফরয আদায় করল, সে যেন অন্য মাসে ৭০টি ফরয আদায় করল। এ মাস সংযমের মাস এবং সংযমের পুরস্কার হলো জান্নাত। এ মাস পারস্পরিক সমবেদনা ও সহানুভূতি জ্ঞাপনের মাস। এ মাসে মুমিন বান্দার রিযিক বৃদ্ধি করে দেয়া হয়।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, যখন রমজান মাস আসে আসমানের দরজাসমূহ খুলে দেয়া হয় এবং দোযখের দরজাসমূহ বন্ধ করা হয়। আর শয়তানকে শৃংখলিত করা হয়। অপর এক বর্ণনায় আছে, রহমতের দরজাসমূহ খুলে দেয়া হয় (বুখারী ও মুসলিম) উল্লেখিত হাদীসে আসমানের দরজা খোলা বলতে রহমত বর্ষণ করা জান্নাতের দরজা খোলা বলতে নেক কাজ করার তৌফিক প্রদান করা এবং জাহান্নামের দরজা বন্ধ করা বলতে রোজাদারদের আত্মাসমূহকে শয়তানের যাবতীয় প্ররোচনামুক্ত রাখার ব্যাপারে ইঙ্গিত করা হয়েছে। জান্নাতের দরজা খোলা বলতে ইঙ্গিত করা হয়েছে যে, মুমিনগণ সুখশান্তিতে এ মাস কাটাবে এবং আল্লাহ পাক রোযাদারদের মন ও ধন-দৌলত প্রশস্ত করে দিবেন, যাতে তারা দান সাদকার মাধ্যমে জান্নাতের পথ সুগম করতে পারে। জাহান্নামের দরজা বন্ধ করে দেয়া হবে বলে ইঙ্গিত করা হয়েছে যে, রোজাদারের নফসকে অশ্লীল ও বেহুদা কর্ম হতে এবং নফসে আম্মারার ধোঁকা থেকে রক্ষা করে যাতে জান্নাতে যাওয়ার পথ সুগম করতে পারে।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, জান্নাতের দরজাসমূহের মধ্যে একটা দরজা হলো ‘‘বাবুরাইয়ান’’) এই দরজা দিয়ে কিয়ামতের দিন রোজাদার ব্যতীত অন্য কেহ প্রবেশ করতে পারবে না। অতঃপর আহবান করা হবে কোথায় এ ব্যক্তি যে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য রোজা রাখতো। এ আহবান শুনে রোজাদার ব্যক্তি জান্নাতের এ দরজায় গিয়ে দাঁড়িয়ে যাবে এবং প্রবেশের পর ঐ দরজা বন্ধ করে দেয়া হবে। আর কেউ তাতে প্রবেশ করতে পারবে না। (বুখারী ১ ঃ ২৫৪ (৩)

হিজরী সনের নবম মাস রমজান। নানা বৈশিষ্ট্য ফযিলত, তাৎপর্য ও শিক্ষা নিয়ে প্রতিবছর মোবারক এ মাসটির আগমনে মু’মিনদের জীবনে নেমে আসে সংযম ও পুণ্যের উৎসব।
আল্লাহ পাক রমজান মাসের রোজা ফরয করেছেন এবং এর রাতগুলোতে আল্লাহর সামনে দন্ডায়মান হওয়াকে নফল ইবাদত রূপে সুনির্দিষ্ট করেছেন। হাদীস শরিফে উল্লেখ করা হয়েছে, যে ব্যক্তি এ রাতে আল্লাহর রেজামন্দি, সন্তুষ্টি ও নৈকট্য লাভের উদ্দেশে কোন ওয়াজিব, সুন্নাত বা নফল আদায় করবে, তাকে এর জন্য অন্যান্য সময়ের ফরয ইবাদততুল্য সওয়াব প্রদান করা হবে। আর যে ব্যক্তি এ মাসে কোন ফরয আদায় করবে, সে অন্যান্য সময়ের সত্তরটি ফরয ইবাদতের সমান সওয়াব লাভ করবে।
রমজান হলো পবিত্র কোরআন নাযিলের মাস। মানব জাতির মুক্তির সনদ, আল্লাহর পক্ষ হতে তার বান্দাকে প্রদত্ত মহান নিয়ামত আল কুরআনুল কারীম এ মাসেই অবর্তীণ হয়েছে। যেমন আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘রমজান মাসই হল সে মাস, যাতে নাযিল করা হয়েছে  আল কোরআন, যা মানুষের জন্য হিদায়াত এবং     সত্যপথ যাত্রীদেও জন্য সুস্পষ্ট পথর্নিদেশ আর ন্যায় ও অন্যায়ের মাঝে র্পাথক্য র্নিণয়কারী। কাজেই তোমাদের মধ্যে যে লোক এ মাসটি পাবে সে যেন এ মাসের রোজা রাখে।
মুসলমানরা যদি রমজানের প্রকৃত উদ্দেশ্য ও তাৎপর্য সম্পর্কে যথাযথ অবগত হয়ে আল্লাহ-রাসূল এবং সাহাবায়ে কেরাম (রা.) এর নির্দেশিত পন্থায় সিয়াম সাধনায় ব্রতী হয় তবে অবশ্যই তাদের সমাজে রোজার সুফল দেখা দিবে এবং সেই সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে। বলার অপেক্ষা রাখে না, আমাদের সমাজে আজ যত অন্যায় অবিচার, অঘটন ও অশান্তি বিদ্যমান তার একমাত্র কারণই হচ্ছে মহান আল্লাহ অত্মপরিশুদ্ধির লক্ষ্যে যেই পবিত্র কুরআন নাযিল করেছেন এবং তার নির্দেশসমূহ যথাযথ পালন করতে বলেছিলেন, আমরা তা থেকে দূরে সরে গেছি। পবিত্র রমজানের সিয়াম সাধনা ও কুরআন চর্চার দ্বারা আল্লাহ আমাদের আত্মাকে পরিশুদ্ধ করে ভাল মানুষ তথা মুত্তাকি হবার তাওফীক দিন।

About admin